থাইল্যান্ডে চালের দাম কমলেও এশিয়ায় এখনো সর্বোচ্চ

থাইল্যান্ডের রফতানি বাজারে গত সপ্তাহে চালের দাম কমে প্রায় এক মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। দেশটির স্থানীয় মুদ্রা বাতের বিনিময় হার কমে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা কম থাকায় চালের এ দরপতন হয়েছে।

তবে দাম কমলেও এশিয়ার অন্য প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোর তুলনায় থাইল্যান্ডের চাল এখনো সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের অংশ প্লাটসের তথ্যানুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৭৪ ডলার, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় টনপ্রতি ১১ ডলার কম। ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারির পর এটিই দেশটিতে চালের সর্বনিম্ন দাম।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককভিত্তিক এক বিক্রেতা জানান, প্রধানত মুদ্রার বিনিময় হারের কারণেই চালের দাম কমেছে। বর্তমানে বাজারে ক্রেতাদের পক্ষ থেকে চাল কেনার তেমন কোনো আগ্রহ বা প্রস্তাব (বিড) নেই। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন ফসল আসা শুরু হলে বাজারে বেচাকেনা বাড়তে পারে বলে তিনি আশা করছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে থাই মুদ্রা বাতের বিনিময় হার আগের সপ্তাহের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ কমেছে।

থাইল্যান্ডের চালের দাম কমলেও এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় তা এখনো বেশ চড়া। প্লাটসের তথ্যানুযায়ী, থাইল্যান্ডের সমমানের চালের চেয়ে পাকিস্তানের চাল টনপ্রতি ৭ ডলার কমে বিক্রি হচ্ছে। ভিয়েতনামের চালের দাম থাইল্যান্ডের তুলনায় টনপ্রতি ২৭ ডলার কম। এছাড়া ভারতের চাল টনপ্রতি ২৮ ডলার এবং মিয়ানমারের চাল ২৯ ডলার কমে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এশিয়ার বাজারে এখন মিয়ানমারই সবচেয়ে কম দামে চাল রফতানি করছে।

মার্চ ও এপ্রিলের নতুন ফসল বাজারে আসার অপেক্ষায় অনেক ক্রেতা এখন চাল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক এক ক্রেতা জানান, চালের দাম আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভালো দামের আশায় তারা এখন বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। এছাড়া পূর্ব এশিয়ায় চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণেও গত সপ্তাহে বাজারে বেচাকেনা বেশ কম ছিল।

আরও